Agri Education 24 (agrieducation24.blogspot.com)
--:--:--

Top News

কয়েকটি উন্নত জাতের গরুর পরিচিতি । Cattle Breed Introduction.

মোঃ আব্দুল্লাহ ফারাজী

প্রভাষক, ইতনা স্কুল এন্ড কলেজ

বাংলাদেশে পালিত কয়েকটি উন্নত জাতের গরুর পরিচিতি

১. শাহিওয়াল (Sahiwal)

শাহিওয়াল পাকিস্তানের অত্যন্ত পরিচিত একটি দুধাল গরুর জাত। বর্তমানে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ অঞ্চলে এ জাতের গরু পালন করা হয়। এরা সাধারণত শান্ত, সহনশীল ও সহজে মানিয়ে নিতে সক্ষম। দেহ মোটাসোটা, ভারী ও বলিষ্ঠ। ত্বক পাতলা এবং কিছুটা ঢিলেঢালা প্রকৃতির।

এ জাতের গরুর পা তুলনামূলক খাটো, শিং ছোট ও মোটা, কান ঝুলন্ত এবং কানের ভেতরে কালচে দাগ দেখা যায়। লেজ বেশ লম্বা এবং অনেক সময় মাটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। লেজের ডগায় কালো লোমের গুচ্ছ থাকে। সাধারণত গায়ের রং ফ্যাকাশে লাল হলেও কখনও গাঢ় লাল, সাদা বা কালো ছোপও থাকতে পারে। একটি গাভী ৩০০ দিনের দুগ্ধকালীন সময়ে ২০০০–৫০০০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিতে পারে।

২. সিন্ধি (Sindhi)

সিন্ধি জাতের গরুর উৎপত্তি পাকিস্তানের সিন্ধু অঞ্চলে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই জাত পালন করা হয়। এদের দেহের রং সাধারণত গাঢ় লাল, লালচে বাদামি বা চকলেট বর্ণের হয়। গাভীর তুলনায় ষাঁড়ের রং বেশি গাঢ় হয়।

এ জাতের গরু মাঝারি আকারের, শক্তিশালী এবং দুধ ও কৃষিকাজ—উভয় ক্ষেত্রেই উপযোগী। গাভীর ওলান সুন্দর, দুধ উৎপাদন ক্ষমতা বেশি এবং এক বিয়ানে কয়েক হাজার লিটার পর্যন্ত দুধ দিতে পারে।

৩. জার্সি (Jersey)

জার্সি জাতের গরুর উৎপত্তি ইংলিশ চ্যানেলের জার্সি দ্বীপে। বহু বছর ধরে পরিকল্পিত প্রজননের মাধ্যমে এই জাতকে উন্নত করা হয়েছে। জার্সি গরু বিশ্বব্যাপী দুধাল জাত হিসেবে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

এদের দেহ লম্বাটে, পা তুলনামূলক ছোট এবং গায়ের রং সাধারণত হালকা বাদামি বা লালচে। খাদ্য কম খেলেও ভালো পরিমাণ দুধ দেয়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এ জাতের গরু ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে।

৪. হলস্টিন (Holstein Friesian)

হলস্টিন গরুর উৎপত্তি নেদারল্যান্ডস। এ জাতের গরু পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপাদনকারী জাতগুলোর একটি। এদের গায়ে বড় বড় কালো-সাদা ছোপ থাকে। গাভী শান্ত প্রকৃতির হলেও ষাঁড় তুলনামূলক উগ্র।

একটি পূর্ণবয়স্ক গাভীর ওজন প্রায় ৭০০–৭৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে এবং প্রতিদিন বহু লিটার দুধ দেয়। উন্নত খামারে পালনে এ জাত অত্যন্ত লাভজনক।

৫. হারিয়ানা (Hariana)

ভারতের হরিয়ানা রাজ্য থেকে এ জাতের উৎপত্তি। নামও সেই অঞ্চল থেকে এসেছে। এ জাতের গরু দুধ উৎপাদন ও কৃষিকাজ—দুই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। দেহ লম্বা, পা শক্তিশালী এবং উচ্চতা বেশি।

এদের গঠন বলিষ্ঠ এবং কৃষিকাজে উপযোগী। একটি গাভী প্রতি বিয়ানে প্রায় ১৪০০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিতে পারে।

৬. সংকর জাত (Crossbred)

সংকর জাতের গরু দেশি গাভীর সঙ্গে বিদেশি উন্নত জাতের ষাঁড়ের কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত হলস্টিন, জার্সি, শাহিওয়াল ও সিন্ধি জাতের সিমেন ব্যবহার করে সংকর জাত উৎপাদন করা হয়।

সংকর গরু সাধারণত দেশি গরুর তুলনায় আকারে বড়, দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং দুধ উৎপাদন বেশি করে। বাংলাদেশের জলবায়ুতে সরাসরি বিদেশি জাতের গরু সব সময় উপযোগী না হলেও সংকর জাত খুব ভালো মানিয়ে যায়। এ কারণে বর্তমানে দেশের খামারগুলোতে সংকর জাতের গরুর গুরুত্ব অনেক বেশি।

Post a Comment

Previous Post Next Post