Agri Education 24 (agrieducation24.blogspot.com)
--:--:--

গবাদিপ্রাণী, হাঁস ও মুরগির টিকার নাম ও ব্যবহার নির্দেশিকা।

গবাদিপ্রাণি ও হাঁস-মুরগির টিকা: সংরক্ষণ ও ব্যবহার নির্দেশিকা

টিকার নাম সংরক্ষণের তাপমাত্রা ও মেয়াদ প্রতি ভায়ালে টিকার মাত্রা ব্যবহারবিধি সেবা মূলা (প্রতি ভায়াল) মন্তব্য
গবাদিপ্রাণির টিকা
১। ক্ষুরারোগ ২°-৪°সে.- ৬ মাস ১৬ গরু/মহিষ-৬ সিসি চামড়ার নিচে
বাছুর-৩ সিসি চামড়ার নিচে
ছাগল/ভেড়া-২ সিসি চামড়ার নিচে
৪০০/- ৪ মাস বয়সে, ৪-৬ মাস অন্তর
২। তড়কা ২°-৪°সে.- ৬ মাস ১০০ গরু/মহিষ/ঘোড়া-১ সিসি চামড়ার নিচে
ছাগল/ভেড়া-০.৫ সিসি চামড়ার নিচে
৪০/- ৬ মাস বয়সে, ১ বছর অন্তর
৩। বাদলা ২°-৪°সে.- ৬ মাস ২০ গরু/মহিষ-৫ সিসি চামড়ার নিচে
ছাগল/ভেড়া-২ সিসি চামড়ার নিচে
৪০/- ৬ মাস-৩ বছর বয়সী প্রাণিতে, ৬ মাস অন্তর
৪। গলাফুলা ২°-৪°সে.- ৬ মাস ৫০ গরু/মহিষ-২ সিসি চামড়ার নিচে
ছাগল/ভেড়া-১ সিসি চামড়ার নিচে
৫০/- ২ বছর বয়সে, ৬ মাস অন্তর। এনজুটিক এলাকায় ৬ মাস বয়সী বাছুরে অর্ধেক মাত্রায়
৫। পিপিআর -২০°সে.- ২ বছর
২°-৪°সে.- ৬ মাস
১০০ ছাগল/ভেড়া-১ সিসি চামড়ার নিচে ৭০/- ৪ মাস বয়সে, ১ বছর অন্তর। মায়ের টিকা না দেয়া থাকলে বাচ্চায় ২ মাস বয়সে ১ম ডোজ, ৬ মাসে বুস্টার ডোজ
৬। ছাগলের বসন্ত -২০°সে.- ১ বছর
২°-৪°সে.- ১ মাস
১০০ ছাগল/ভেড়া-১ সিসি চামড়ার নিচে ৭৫/- ২ মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সী ছাগল/ভেড়ায় ১ বার
৭। জলাতংক (LEP) -২০°সে.- ১ বছর
২°-৪°সে.- ৬ মাস
১ মাত্রা কুকুর - ৩ সিসি মাংসে ৫০/- ৩ মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সে, ১ বছর অন্তর
৮। জলাতংক (HEP) -২০°সে.- ১ বছর
২°-৪°সে.- ৬ মাস
১ মাত্রা কুকুরের বাচ্চা/বাছুর/বিড়াল/ছাগল ভেড়া/বানর-১.৫ সিসি, গরু-৩ সিসি মাংসে ৫০/- মায়ের টিকা না দেয়া থাকলে ২ মাস বয়সী কুকুরের বাচ্চায়, পরে ৪ মাস বয়সে LEP
হাঁস-মুরগির টিকা
৯। বাচ্চা মুরগির রাণীক্ষেত (বিসিআরডিভি) -২০°সে.- ১ বছর
-৫°-০°সে.- ৬ মাস
২°-৪°সে.- ১ মাস
থার্মোফ্লাক্সে বরফসহ- ১ দিন
১০০ যেকোন এক চোখে- ১ ফোঁটা ২৫/- ৪-৭ দিন বয়সে, ১৪ দিন পর বুস্টার ডোজ
১০। বড় মুরগির রাণীক্ষেত (আরডিভি) -৫°-০°সে.- ৬ মাস
২°-৪°সে.- ৪ মাস
থার্মোফ্লাক্সে বরফসহ- ১ দিন
১০০ মাংসে - ১ সিসি ২৫/- ২ মাস বয়সে, ৬ মাস অন্তর
১১। ফাউল পক্স -২০°সে.- ১ বছর
-৫°-০°সে.- ৫ মাস
২০০ পালকের চামড়ায় খুঁচিয়ে ৫০/- ৩০ দিন বা তদূর্ধ্ব বয়সী বাচ্চায় ১ বার
১২। পিজিয়ন পক্স -২০°সে.- ১ বছর
-৫°-০°সে.- ৫ মাস
২০০ পালকের চামড়ায় খুঁচিয়ে ৪০/- ৩-৭ দিন বয়সী কবুতর/১ দিন বয়সে মায়ের শরীরে
১৩। হাঁস-মুরগির কলেরা ২°-৪°সে.- ৬ মাস ১০০ চামড়ার নিচে - ১ সিসি ৫০/- ২ মাস বয়সে, ৬ মাস অন্তর
১৪। সালমোনেলোসিস/ফাউল টাইফয়েড ২°-৪°সে.- ৬ মাস ২০০ চামড়ার নিচে -০.৫ সিসি ২৪০/- ৪০ দিন বয়সে, ১ মাস পর বুস্টার ডোজ, ৬ মাস অন্তর
১৫। ডাক প্লেগ -২০°সে.- ১ বছর
২°-৪°সে.- ৬ মাস
থার্মোফ্লাক্সে বরফসহ-১ দিন
১০০০ চামড়ার নিচে -০.৫ সিসি ৪০০/- ৩০ দিন বয়সে, ৬ মাস অন্তর

টিকার গুণগতমান অক্ষুন্ন রাখতে করণীয়

১. তরল এবং হিমশুষ্ক উভয় প্রকার টিকা পরিবহন করতে বরফ/আইস ব্যাগসহ ফ্লাস্ক বা কুলবক্স ব্যবহার করুন। সঠিকভাবে টিকা সংরক্ষণ, পরিবহন এবং সময়মতো প্রয়োগ না করা টিকা অকার্যকর হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

২. তরল আকারে সরবরাহকৃত টিকাসমূহ রেফ্রিজারেটরে ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। এই টিকা শুন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে না। হিমশুদ্ধ টিকাসমূহ শুন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচের তাপমাত্রায় বা বরফপাত্রে সংরক্ষণ করুন।

৩. হিমশুষ্ক টিকাসমূহ গুলাতে সরবরাহকৃত ডাইলুয়েন্ট (টিকার দ্রবণ) এবং যে সকল টিকার সাথে ডাইলুয়েন্ট সরবরাহ করা হয় না সেগুলোর ক্ষেত্রে বাজারেপ্রাপ্ত ডিস্টিল্ড ওয়াটার (পরিশুদ্ধ পানি) ব্যবহার করুন।

৪. হিমশুষ্ক টিকাসমূহ একবার ডাইলুয়েন্ট বা ডিস্টিল্ড ওয়াটারে মিশ্রিত করার পর ২ (দুই) ঘন্টার মধ্যে সম্পূর্ণ টিকার ব্যবহার শেষ করুন। ব্যবহৃত টিকা সংরক্ষণ করে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না।

৫. টিকা প্রয়োগের পূর্বে সিরিঞ্জ, সূঁচ ও আনুসঙ্গিক পাত্রসমূহ জীবাণুমুক্ত করে নিন।

৬. টিকা প্রয়োগের পর টিকার অব্যবহৃত অংশ, ভায়াল, বোতল, ক্যাপ, রাবার স্টপার, একবার ব্যবহার উপযোগী সূঁচ মাটির নিচে পুঁতে ফেলুন বা পুড়িয়ে ফেলুন।

৭. আপনার সুস্থ-সবল গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিতে নিয়মিত টিকা প্রয়োগ করুন।

৮. টিকা প্রয়োগের এক থেকে দুই সপ্তাহ পূর্বে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে কৃমিনাষক ঔষধ সেবন করান।

নিয়মিত টিকার ব্যবহার, সুস্থ-সবল গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির অঙ্গীকার

আপনার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে নিয়মিত টিকা প্রয়োগ করুন। নিয়মিত টিকার ব্যবহার আপনার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিকে সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করবে, চিকিৎসা ব্যয় কমে যাবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অসুস্থতার কারণে প্রায়শই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়, নিয়মিত টিকা ব্যবহার করলে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমে যাবে এবং মানবজাতি এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ পাবে। রোগ প্রতিরোধ করা রোগ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম।

Ref: প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান , মহাখালী, ঢাকা।

Post a Comment

Previous Post Next Post