Agri Education 24 (agrieducation24.blogspot.com)
--:--:--

Top News

গবাদিপশুর FMD ও LSD রোগের কারণসহ টিকার নাম ও ব্যবহারের নিয়ম।

গবাদিপশু অর্থাৎ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণীর জন্য এফএমডি বা ক্ষুরা রোগ ও লাম্পি স্কিন ডিজিজ বা এলএসডি খুবই মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ।

ক্ষুরা রোগ/এফ.এম.ডি (Foot and Mouth Disease / F.M.D)

আমাদের দেশের ক্ষুরা রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে এ রোগ বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন-জ্বরা, বাতা, ক্ষুরা চল, ক্ষুরে ঘা, তপা ইত্যাদি। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও শুকরের এ রোগ হয়, তবে গরুতে এ রোগ ব্যাপক আকারে দেখা যায়। সাধারণত এ রোগ সারা বছর আমাদের দেশের প্রাণিতে হয়, তবে ইদানিং ঈদ-উল-আযহা উৎসবের অর্থাৎ কোরবানীর পরপর এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। কারণ ঐ সময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে গরু আমদানি করা হয় কোন সঙ্গরোধ ছাড়াই, ফলে ওখানকার ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গরু সহজেই আমাদের দেশে চলে আসে এবং যেহেতু ক্ষুরা রোগ অতি ছোঁয়াচে তাই খুব তাড়াতাড়ি এ রোগ আমাদের দেশের গবাদি প্রাণিতে ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

কারণ:

  • ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ (Foot and Mouth disease) / Aphtho ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়। এ রোগ ৭টি ভাইরাস স্ট্রেইন দ্বারা সংক্রমিত হয়। স্ট্রেইনগুলো হলো- A, O, C, Asia-1, Sat-1, Sat-2 এবং Sat-3।

ছড়ানোর উপায়:

এটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে রোগ যা বাতাসের মাধ্যমে ১০০শ মাইল পর্যন্ত ছড়াইতে পারে। এটি খাদ্য, পানি, সংস্পর্শে, পরিধানের কাপড়, গরু পরিচর্যাকারীর মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ (Lumpy Skin Disease)

লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এল.এস.ডি) ভাইরাস জনিত একটি চর্মরোগ যা শুধু গরু ও মহিষে হয়। সর্বপ্রথম ১৯২৯ সালে আফ্রিকা মহাদেশের জাম্বিয়ার গবাদিপশুতে দেখা যায়। তবে, এ রোগটি আফ্রিকা, মধ্য-প্রাচ্য, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপ, চীন, ভারত এবং বাংলাদেশে বিস্তৃত। রোগটি মশা-মাছি দ্বারা সংক্রমিত হয়। রোগটি দ্রুত ছড়াতে পারে এবং এ রোগের আক্রান্তের হার ৮০-৯০% পর্যন্ত হতে পারে এবং মৃত্যুর হার ১০-৪০% এমনকি তারও বেশি হতে পারে। রোগটি শীতকালে বেশি হয়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে এ রোগটি প্রথম শনাক্ত হয়, যা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রতিটি জেলায় লক্ষ লক্ষ গরু এ রোগে আক্রান্ত এবং অনেক গরু মারা গেছে।

কারণ: এল.এস.ডি কারণ হলো- শিপ পক্স বা ক্যাপোরিপক্স ভাইরাস যা গরু লক্ষণ প্রকাশ করে।

রোগটি যেভাবে ছড়ায়:

  • মশা, মাছি, আটালি এবং মাইটস এর মাধ্যমে রোগটি দ্রুত এক প্রাণি হতে অন্য প্রাণিতে ছড়ায়।
  • আক্রান্ত প্রাণির লালা, নাক থেকে নিঃসৃত পদার্থ, দুধ এবং আক্রান্ত প্রাণির সংস্পর্শের মাধ্যমেও রোগটি অন্য সুস্থ প্রাণিতে ছড়াতে পারে।
  • আক্রান্ত প্রাণি এক স্থান হতে অন্য স্থানে পরিবহনের মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে।
ভাইরাসজনিত রোগগুলোর কোন চিকিৎসা না থাকায় নিয়মিত টিকাদান করে ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধ করতে হয়। গবাদিপশুর FMD ও LSD রোগের টিকার নাম ও ব্যবহার নির্দেশিকা বিস্তারিতভাবে আজকের এই পোস্টে আলোচনা করা হলো। আপনার গবাদিপ্রাণীকে সুস্থ রাখতে সময়মতো টিকা দান করুন। আশেপাশের কোন প্রাণী এফএমডি ও এলএসডি রোগে আক্রান্ত হলে আপনার প্রাণীকে দ্রুত এই দুইটি ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ দিন (যদি বুস্টার ডোজ না দেওয়া হয়ে থাকে)। অসুস্থ প্রাণী থেকে আপনার সুস্থ প্রাণীকে আলাদা রাখুন।

এফএমডি রোগের টিকার নাম ও ব্যবহার নির্দেশিকা:

বাংলা এফএমডি ভ্যাক (Bangla FMD Vac)

নির্দেশনা
এফএনএফ ফার্মাসিউটিক্যালের বাংলা এফএমডি ভ্যাক গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ক্ষুরা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
উপাদান
প্রতি ডোজে রয়েছে ইনঅ্যাক্টিভেটেড এফএমডি ভাইরাস সেরোটাইপ O, A এবং Asia-1 ≥ ৩ পিডি₅₀।
মাত্রা ও প্রয়োগবিধি
ঘাড়ের নিম্নাংশের চামড়ার নিচে (Subcutaneous) ইনজেকশন দিতে হবে।
গরু ও মহিষ
ভ্যাকসিনেশনমাত্রাপ্রয়োগকাল
প্রথম ভ্যাকসিনেশন০২ মিলি২ মাস বয়সে
বুস্টার ডোজ০২ মিলি৩-৪ সপ্তাহ পর
পরবর্তী ডোজ০২ মিলি৪-৬ মাস পর পর
ছাগল ও ভেড়া
ভ্যাকসিনেশনমাত্রাপ্রয়োগকাল
প্রথম ভ্যাকসিনেশন০১ মিলি২ মাস বয়সে
বুস্টার ডোজ০১ মিলি৩-৪ সপ্তাহ পর
পরবর্তী ডোজ০১ মিলি৪-৬ মাস পর পর
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: নিয়মিত টিকা না দিলে FMD খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

LSD রোগের টিকার নাম ও ব্যবহারের নিয়ম

LSD-NDOLL ভ্যাকসিন

টিকার কার্যকারিতা
লাম্পি স্কিন ডিজিজের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং টিকা দেওয়ার ২১ দিনের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
ডোজ ও প্রয়োগ পদ্ধতি
প্রতি ডোজে ২ মিলি সাবকুটেনিয়াস ইনজেকশন দিতে হবে এবং ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে।
উপাদান
প্রতি ২ মিলিতে আছে অ্যাটেনুয়েটেড LSD নিথলিং স্ট্রেইন (Neethling Strain) 10³·⁵ TCID₅₀।
✔️ পরামর্শ: টিকা দেওয়ার আগে অবশ্যই নিকটস্থ ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Post a Comment

Previous Post Next Post