ধানের অনেক ক্ষতিকর পোকা রয়েছে। যেমন-মাজরা পোকা, গান্ধী পোকা, শীষ কাটা লেদা পোকা, বাদামী গাছ ফড়িং, পামরী পোকা ইত্যাদি।
ধানের সকল ক্ষতিকর পোকাগুলোর ক্ষতির লক্ষণ ও দমন পদ্ধতি নিয়ে আজকের পোস্টে আলোচনা করা হলো।
![]() |
| ধানের পোকা ও ঔষধ |
** (ক) ধানের মাজরা পোকা (Rice stem borer)**
ক্ষতির লক্ষণ১. পূর্ণবয়স্ক হলুদ মাজরা পোকা একধরনের মথ।
২. এ পোকার স্ত্রী মথ ধান গাছের পাতার আগার দিকে ডিম পাড়ে।
৩. ডিম থেকে কিড়া বের হওয়ার পর কিড়াগুলো কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে কাণ্ডের নিচের দিকে কেটে দেয়।
৪. গাছের শিষ আসার পূর্বে ক্ষতি করলে ‘মরাডিগ’ এবং শিষ আসার সময় ক্ষতি করলে সাদা শিষ বের হয়ে আসে। ডিগ পাতা মরে গেলে তাকে “ডেড হার্ট” বলে।
দমন পদ্ধতি
১. ডিমের গাদা সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
২. আলোক ফাঁদের সাহায্যে মথ সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
৩. জমিতে ডালপালা পুঁতে পোকা খেকো পাখি বসবার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. জমিতে ১০-১৫% ভাগ মরাডগা অথবা শতকরা ৫% সাদা শিষ দেখা গেলে সুমিথিয়ন ৫০ ইসি বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি জাতীয় কীটনাশক ১.৫ লি/ হেক্টর হারে প্রয়োগ করতে হবে।
৫. ধান কাটার পর চাষ দিয়ে নাড়া মাটিতে মিশিয়ে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
১. ডিমের গাদা সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
২. আলোক ফাঁদের সাহায্যে মথ সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
৩. জমিতে ডালপালা পুঁতে পোকা খেকো পাখি বসবার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. জমিতে ১০-১৫% ভাগ মরাডগা অথবা শতকরা ৫% সাদা শিষ দেখা গেলে সুমিথিয়ন ৫০ ইসি বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি জাতীয় কীটনাশক ১.৫ লি/ হেক্টর হারে প্রয়োগ করতে হবে।
৫. ধান কাটার পর চাষ দিয়ে নাড়া মাটিতে মিশিয়ে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
** (খ) নলীমাছি বা গলমাছি (Rice gall midge)**
গলমাছি দেখতে অনেকটা মশার মতো। এ মাছির কিড়া ধানগাছের বাড়ন্ত কুশিকে আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত কুশি পিঁয়াজ পাতার মতো হয়ে যায়। সে কুশি থেকে আর শিষ বের হয় না।দমন পদ্ধতি
১. রোপণের পর নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
২. আলোক-ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করতে হবে।
৩. জমিতে ২৫% ক্ষতিগ্রস্ত পাতা দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। যেমন: মার্শাল ২০ ইসি ১.৫০ লি./হেক্টর হারে।
১. রোপণের পর নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
২. আলোক-ফাঁদ ব্যবহার করে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করতে হবে।
৩. জমিতে ২৫% ক্ষতিগ্রস্ত পাতা দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। যেমন: মার্শাল ২০ ইসি ১.৫০ লি./হেক্টর হারে।
** (গ) পামরি পোকা (Rice hispa)**
পূর্ণবয়স্ক পামরি পোকার পিঠের ওপর অসংখ্য কাঁটা আছে। বয়স্ক পোকা এবং কিড়া উভয়ই ধান গাছে আক্রমণ করে। পূর্ণবয়স্ক পোকা ধানের পাতার ওপর সমান্তরাল দাগ করে সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। কিড়া পাতার দু স্তরের ভেতরে সুড়ঙ্গ করে খায়।দমন পদ্ধতি
১. হাতজাল বা মশারির কাপড় দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২. জমিতে শতকরা ৩৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অথবা প্রতি কুশিতে ৫টি পোকা থাকলে অনুমোদিত কীটনাশক ম্যালাথিয়ন বা ডায়াজিনন প্রয়োগ করতে হবে।
১. হাতজাল বা মশারির কাপড় দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২. জমিতে শতকরা ৩৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অথবা প্রতি কুশিতে ৫টি পোকা থাকলে অনুমোদিত কীটনাশক ম্যালাথিয়ন বা ডায়াজিনন প্রয়োগ করতে হবে।
(ঘ) পাতা মোড়ানো পোকা (Rice leaf folder)
পূর্ণবয়স্ক পাতা মোড়ানো পোকা একধরনের মথ। এ পোকার কিড়া ধানের ক্ষতি করে থাকে। কিড়াগুলো তাদের লালা দিয়ে পাতা লম্বালম্বিভাবে মুড়িয়ে এর ভেতর অবস্থান নেয় এবং এখান থেকে সবুজ অংশ খেয়ে গাছের ক্ষতি করে থাকে।
দমন পদ্ধতি:
১. আলোর ফাঁদ সাহায্যে পোকার মথ ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২. জমিতে ডাল বা বাঁশ পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে পোকা মারতে হবে।
৩. কিড়াসহ আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে।
৪. জমির ২৫% পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
(ঙ) ঘাস ফড়িং (Grasshopper)
পূর্ণবয়স্ক ঘাস ফড়িং হালকা সবুজ অথবা হলদে বাদামি রং-এর হয়ে থাকে। বাচ্চা এবং পূর্ণবয়স্ক উভয়ই ধান গাছের ক্ষতি করে থাকে। এরা গাছের পাতার কিনারা কেটে কেটে খায়। আক্রমণ বেশি হলে পাতার মধ্যশিরা বাদে সম্পূর্ণ পাতা খেয়ে ফেলতে পারে। এ ধরনের ক্ষতি হলে গাছ দুর্বল হয়ে যায় এবং ফলন কমে যায়।
দমন পদ্ধতি:
১. হাত জাল দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২. আলোক ফাঁদ-এর সাহায্যে ফড়িং ধরার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. জমিতে ডাল পুঁতে পোকা খেকো পাখি বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. শতকরা ২৫ ভাগ পাতা আক্রান্ত হলে অনুমোদিত কীটনাশক যেমন: ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ লি./হেক্টর হারে ব্যবহার করতে হবে।
(চ) বাদামি গাছ ফড়িং (Brown plant hopper)
বাদামি গাছ ফড়িং বাদামি বর্ণের হয়। প্রাথমিক অবস্থায় বাচ্চাগুলোর রং সাদা থাকে এবং পরে বাদামি আকার ধারণ করে। এরা ধানগাছের গোড়ায় বসে রস শুষে খায়। ফলে গাছ পুড়ে যাওয়ার রং ধারণ করে মরে যায়। তখন একে হপার বার্ন বলে।
দমন পদ্ধতি:
১. আলোক ফাঁদ-এর সাহায্যে লম্বা পাখা-বিশিষ্ট ফড়িং দমন করতে হবে।
২. ধানের চারা পাতলা করে লাগালে পোকার বংশ বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে।
৩. পোকা দেখা গেলে পানি সরিয়ে দিয়ে কয়েক দিন জমি শুকিয়ে নিতে হবে।
৪. জমির অধিকাংশ গাছে পোকা দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক যেমন: ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা সুমিথিয়ন ৫৭ ইসি ১ লি./হেক্টর হারে প্রয়োগ করতে হবে।
(ছ) গান্ধী পোকা (Rice bug)
গান্ধী পোকা ধানের দানায় দুধ সৃষ্টির সময় আক্রমণ করে। পূর্ণবয়স্ক ও বাচ্চা পোকা উভয়ই ধানের দানার খোসা ছিদ্র করে ধানের দুধ শুষে খায়। ফলে ধান চিটা হয়ে যায়। চিটা ধানে প্রায়ই বাদামি গোলাকার দাগ দেখা যায়।
দমন পদ্ধতি:
১. আলোক ফাঁদ-এর সাহায্যে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
২. হাত জালের সাহায্যে পোকা সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
৩. ধানের প্রতি গোছায় ২/৩টি গান্ধী পোকা দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। যেমন—ডায়াজিনন ৬০ ইসি ১ লিটার/হেক্টর হারে।
৪. আক্রান্ত ক্ষেতের নাড়া পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং জমির মাটি শুকাতে হবে।
(জ) শীষকাটা লেদা পোকা (Ear cutting Caterpiller)
ক্ষতির লক্ষণ
১. এ পোকার কীড়াই ধানগাছের ক্ষতি সাধন করে থাকে।
২. কীড়াগুলো প্রথম দিকে গাছের পাতার পাশ থেকে কেটে খায়।
৩. পরে এরা আধা পাকা বা পাকা ধানের শীষগুলো কেটে দেয়।
৪. রাতে কীড়াগুলো ধান ক্ষেতে আক্রমণ করে এবং দিনের বেলায় গাছের গোড়ায় বা জমির ফাটলে লুকিয়ে থাকে।
দমন পদ্ধতি
১. জমিতে ডাল পুঁতে পোকা খেকো পাখি বসার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. জমিতে সেচ প্রদান করে কীড়া মেরে ফেলতে হবে।
৩. ধান কাটার পর নাড়া পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৪. প্রতি বর্গমিটারে ১টি পোকা দেখা দিলেই অনুমোদিত কীটনাশক যেমন— কার্বারিল (সেভিন) ৮৫ ইসি পাউডার ১.৭ কেজি/ হেক্টর হারে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।

Post a Comment